নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

তেহরান/আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৪ মার্চ ২০২৬ — ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, তার মেঝ ছেলে মোজতোবা হোসেইনি খামেনি-ই হতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
লন্ডনভিত্তিক বিরোধী সংবাদমাধ্যম Iran International সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ৮৮ সদস্যের Assembly of Experts প্রয়াত খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী মোজতোবাকেই বেছে নিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
দীর্ঘদিন ধরেই মোজতোবাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখেছেন অনেকে। বাবার কার্যালয়ের অন্তরালে থেকেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হয়। যদিও তিনি কখনো প্রকাশ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে ছিলেন না, তবুও ইরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ বলয়ে তার অবস্থান ছিল দৃঢ়।
সমালোচকদের মতে, ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর সমর্থনই মোজতোবার সম্ভাব্য উত্থানের বড় ভিত্তি হতে পারে। এই বাহিনী সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে এবং দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতোবা তেহরানের আলাভি স্কুলে পড়াশোনা শেষে কোমে ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষা নেন। দীর্ঘ সময় ধর্মীয় শিক্ষায় যুক্ত থাকলেও তিনি আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করেননি—যা নিয়ে তার নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি মোজতোবা আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হবে। রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি তাকে একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে হবে।
ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কত্ব তার হাতে ন্যস্ত। ফলে নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়টি শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts