নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত থমকে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ দ্রুত বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘এসকর্ট মিশন’ চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। এ ধরনের অভিযানে তেলবাহী জাহাজগুলোকে যুদ্ধজাহাজ দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তবে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি রয়েছে। তাদের হাতে মাইন পাতা নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী হামলার সক্ষমতা রয়েছে, যা ওই জলপথকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। কিছু সময়ের জন্য ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে কিছুটা কমে আসে। তবু বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন সংকটে পড়তে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। তেল উৎপাদন বাড়াতে ভেনেজুয়েলার সম্ভাবনা এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা রুশ তেল বাজারে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কোনো সমাধান না পাওয়া গেলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts