নিজস্ব প্রতিবেদক :

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যশোর শহরের কসমেটিকস বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে তরুণী, শিক্ষার্থী ও গৃহিণীদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজগোজের প্রস্তুতি নিতে অনেকেই এখন প্রসাধনী কিনতে বাজারমুখী হচ্ছেন।
শহরের হাটখোলা রোড, ফেন্সি মার্কেট, হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড, মুজিব সড়ক, সিটিপ্লাজা শপিং কমপ্লেক্স, জেস টাওয়ার ও চুড়িপট্টি এলাকায় কসমেটিকস দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ক্রেতারা বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য দেখছেন ও পরীক্ষা করছেন। কেউ লিপস্টিকের রং বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ ফাউন্ডেশন, কমপ্যাক্ট পাউডার কিংবা স্কিন কেয়ার পণ্যের বিষয়ে দোকানিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের সময় প্রসাধনী পণ্যের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফেন্সি মার্কেটের এক দোকান মালিক রাসেল জানান, বিশেষ করে লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, ফেসওয়াশ, স্কিন কেয়ার ক্রিম ও পারফিউমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তরুণীরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন পণ্য খুঁজে কিনছেন।
বর্তমানে বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী পাওয়া যাচ্ছে। ম্যাট লিপস্টিক ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা, ল্যাকমে ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ৪৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং মিস রোজ লিপস্টিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হুদা বিউটি ব্র্যান্ডের লিপস্টিকের দাম ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।
শুধু লিপস্টিক নয়, ঈদের সাজে ব্যবহারের জন্য ফাউন্ডেশন, কনসিলার ও সেটিং পাউডারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন দোকানে মেবেলিন ফিট মি ফাউন্ডেশন ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা, ল্যাকমে ফাউন্ডেশন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং মিস রোজ ফাউন্ডেশন ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মেহেদী, নেইলপলিশ, চুড়ি, আংটি, কানের দুল, ব্রেসলেট ও নেকলেসসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রীর বিক্রিও বেড়েছে। চুড়িপট্টি এলাকায় মেহেদী ৩০ থেকে ৫০ টাকা, নেইলপলিশ ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বিভিন্ন অলংকার ১০০ থেকে কয়েক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, এবারের বেচাকেনা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তাদের আশা, ঈদের আগের কয়েক দিনে ক্রেতা আরও বাড়বে এবং বিক্রিও বৃদ্ধি পাবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেও এখন প্রসাধনী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। অনেক তরুণী ইউটিউব বা ফেসবুকে বিউটি ব্লগারদের রিভিউ দেখে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে আসছেন।
সব মিলিয়ে ঈদের চাঁদরাত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যশোরের কসমেটিকস বাজারে কেনাকাটার চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts