নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনা হিসেবে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস একসাথে চালুর চিন্তা করছে সরকার। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আলোচনা চলছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন বা ডিভাইস নেই। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে পারে। ফলে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষকদের একটি অংশও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, করোনাকালীন অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কম ছিল এবং শিক্ষার মানও তেমন সন্তোষজনক হয়নি। পাশাপাশি অনেক শিক্ষকই প্রযুক্তিগতভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নন।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ক্লাস চালুর আগে এর বাস্তব প্রভাব ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ নিরূপণ করা জরুরি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি শিক্ষা প্রশাসন।
তাদের মতে, বিকল্পভাবে যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার বাড়ানো বা ক্লাসের সময় কমানো—এসব পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, অনলাইন ও সশরীরের মিশ্র এই শিক্ষা পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে বাস্তব প্রস্তুতি ও সঠিক পরিকল্পনার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts