নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলে এবারের বোরো মৌসুমে ফসলহানির চিত্র ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আগের মতো বাঁধ ভেঙে নয়, বরং অপরিকল্পিত বাঁধই এখন জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গত এক দশকে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। ফলে টানা বর্ষণে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, যার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে পাকা ধান।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)–এর কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
হাওরের কৃষকদের ভাষ্য, শুকনো মৌসুমে ‘জাঙ্গাল’ কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় সেই মাটি ধুয়ে গিয়ে খাল-বিল ও নদীতে জমে পানির ধারণক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে উজান থেকে আসা ঢলের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছর ফাল্গুন থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়ে মার্চের মাঝামাঝি নিম্নাঞ্চলের ফসল তলিয়ে যায়। এরপর কৃষকরা পাম্প বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করলেও এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের ভারী বর্ষণে পুরো হাওর অঞ্চল পানিতে ডুবে যায়।
স্থানীয়দের কাছে এ পরিস্থিতি ‘নয়া দুর্যোগ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, আগে বাঁধ ভেঙে ফসল নষ্ট হতো, এখন বাঁধই ফসল ধ্বংসের কারণ।
তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার হয়েছে। এতে কোটি কোটি ঘনমিটার মাটি ব্যবহৃত হলেও সেই মাটির বড় অংশ নদী-খাল ভরাট করে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশের ক্ষতি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি শুধু প্রাকৃতিক নয়; এর পেছনে রয়েছে নীতিগত দুর্বলতা, দুর্নীতি ও বাস্তবায়নের ঘাটতি। অপরিকল্পিত বাঁধ ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে হাওরের পানি ধারণক্ষমতা কমে গিয়ে প্রতি বছর ঝুঁকি বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হাওর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খাল-নদী খনন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts