নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশের বিদ্যমান বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে যাত্রী সংকট ও ফ্লাইট কমে যাওয়ার বাস্তবতার মধ্যেই নতুন আটটি স্টলপোর্টকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল অর্থ বিনিয়োগের আগে এসব প্রকল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও বাস্তবতা আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় যশোর ও বরিশাল রুটে বিমানযাত্রী উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইভাবে উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে রাজশাহী রুটেও যাত্রী হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে মূলত কক্সবাজার, সৈয়দপুর ও সিলেট রুটই দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য তুলনামূলক লাভজনক।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে যে পরিমাণ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার তুলনায় বাণিজ্যিক সুবিধা খুবই সীমিত। যশোর ও রাজশাহীর মতো বিমানবন্দরে যেখানে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাই কঠিন, সেখানে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে করার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলমও বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়নি। তাই নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের আগে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা ও বাজার চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সরকার অবশ্য আশাবাদী। তাদের মতে, নতুন বিমানবন্দরগুলো চালু হলে বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts