নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজধানীর বিভিন্ন ফলের আড়তে মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা কলা পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ কাজে ইথোফেন, রাইপেনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানেও এসব রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
বাদামতলী, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও টঙ্গীর কয়েকটি আড়তে দেখা গেছে, কাঁচা কলা বদ্ধ ঘরে বা ট্রাকের ভেতরে স্তূপ করে রাসায়নিক মেশানো পানি ছিটিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এতে রাতারাতি কলার খোসা হলুদ হয়ে যায় এবং পরদিনই তা বাজারে বিক্রি করা হয়।
কিছু ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, তাপ প্রয়োগ বা প্রচলিত পদ্ধতিতে কলা পাকানো হয়। তবে কয়েকজন শ্রমিক স্বীকার করেছেন, দ্রুত পাকানোর জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইথোফেন, রাইপেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অপরাধে কয়েকটি আড়তকে জরিমানা করা হয়েছে এবং রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা ধ্বংস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও অধিক মাত্রায় প্রয়োগ এবং পানিতে মিশিয়ে সরাসরি ফলের ওপর ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার আরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত ফল দীর্ঘদিন খেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি, হজমজনিত সমস্যা এবং অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তারা বাজার তদারকি জোরদার এবং ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।