নিউজ প্রবাসী  ডেস্ক ॥
এক সময় সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে আলোচনায় আসা বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প দীর্ঘ মন্দা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, করোনা মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রপ্তানি আদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে খাতটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের জাহাজ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
দেশের প্রধান দুই জাহাজ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও আনন্দ শিপইয়ার্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন অর্ডার আসছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ রপ্তানি হয়েছে এবং আরও কয়েকটি নির্মাণাধীন রয়েছে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান বলেন, দীর্ঘ সংকট কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আবার উৎপাদন ও রপ্তানিতে ফিরেছে। বর্তমানে বিদেশি ক্রেতাদের অর্থায়নে জাহাজ নির্মাণ চলছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহেল বারীও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জাহাজের চাহিদা রয়েছে। তবে কার্যকর অর্থায়নের অভাবে অনেক অর্ডার গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সরকার ও ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা বাড়লে শিল্পটি আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করলেও এখন পর্যন্ত এ তহবিল থেকে কোনো উদ্যোক্তা ঋণ নেননি। উদ্যোক্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত হলে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প আবারও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় জাহাজের পরিবর্তে ছোট ও মাঝারি বিশেষায়িত জাহাজ নির্মাণে গুরুত্ব দিলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বছরে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts