নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সংস্কারের পর নতুনভাবে সাজানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও আন্দোলনের ছবি স্থান পেলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ছবিগুলোর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।
রোববার ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। এ সময় ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ ডাকসুর অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগ্রহশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র রাখা হয়েছে। ডাকসু সংগ্রহশালাটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত।
নতুন সাজানো সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা গেছে। এর একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের অনুষ্ঠানের ছবি, যেখানে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আরেকটি ১৯৪০ সালের লাহোর সম্মেলনের গ্রুপ ছবি এবং অন্যটি ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত ডন পত্রিকার একটি কাটিং।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ছবি রাখা হয়নি। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের সময়ের অংশে তাঁর দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকা তিনটি সংবাদপত্রের কাটিং রাখা হয়েছে। তবে ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কোনো ছবি সেখানে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ‘ফ্যাসিবাদের সব আইকনের’ ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের অংশে বঙ্গবন্ধুর ছবি না রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।”
জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়ে তার বক্তব্য, তিনি ব্যক্তিগতভাবে জিন্নাহর ছবি রাখেননি; বরং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার ছবি রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের আগে সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর একাধিক ছবি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাকসুর এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংগ্রহশালায় আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি রয়েছে।
এ ছাড়া ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবিও রাখা হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অংশে শহীদ নূর হোসেনের ঐতিহাসিক ছবিসহ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের বিভিন্ন আন্দোলনের আলোকচিত্র রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিও নতুন সংগ্রহশালায় যুক্ত হয়েছে। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, ব্যাগ, চশমা, বই, কলমসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে ডাকসুর সংগ্রহশালার বোর্ডে ২০১৯ সালের নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের নাম থাকলেও জিএসের ঘর খালি রাখা হয়েছে। সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী ও পরবর্তীতে জিএস হিসেবে ঘোষিত রাশেদ খানের দুজনের নাম নিয়েই বিতর্ক থাকায় ঘরটি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts