
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় এক নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহর। নিহত ফারদিন আহমেদ নিরবের মৃত্যুর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ছাত্র ও স্থানীয় জনতা কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি তেলপাম্পে ভাঙচুর চালায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে নিরবের সঙ্গে পাম্পকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাম্পের কয়েকজন কর্মচারী তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হয়। পরে তারা জে লাইন, জে আর ও রয়েল পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই বাসগুলো পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে একই সময় নিরবের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সৃজনী পাম্পে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ‘দ্য রেড জুলাই’-এর যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাদের এক সহযোদ্ধাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহত নিরবের বাবা আবুল কাশেম জানান, মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে তাকে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় পাম্পের কর্মীরা তার ছেলেকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার পর ঝিনাইদহ শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ওরফে সৃজনী হারুনের মালিকানাধীন।