
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জুলাই অভ্যুত্থানকালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের হুমকি ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে দুই শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি এবং এক কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকেরা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা এই শিক্ষককে নিয়ে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বিতর্ক ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের হুমকি এবং নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার পদ বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।