নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সরকারি বিধিনিষেধে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যান চলাচলে কড়াকড়ি, শপিংমল ও বড় বাজার বন্ধের ঘোষণা এবং মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে শিল্প-কারখানা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সাধারণ ছুটি এবং শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। সকাল থেকেই ঢাকার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
মিরপুরের একটি পোশাক কারখানার কর্মী তাজুল ইসলাম জানান, ট্রেনে টিকিট না পেয়ে বাসে গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও নিশ্চিত নন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আশায় সব কষ্ট মেনেই গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ভোটের আগের দিন থেকে বড় বাজার ও শপিংমল বন্ধ থাকার ঘোষণায় অনেকেই আগেভাগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে মজুত করছেন। ঢাকার পান্থপথ এলাকার বাসিন্দা শিরিন সুলতানা বলেন, দোকানপাট বন্ধ থাকার সম্ভাবনা এবং পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা বেশি বাজার করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় নির্বাচনের সময় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ লেনদেন করা যাবে না। এছাড়া ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, ফলে এজেন্টের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না।
যান চলাচলেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সেবা। পাশাপাশি ভোটের আগের রাত থেকে ট্রাক, পিকআপ ও লঞ্চ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
তবে জরুরি সেবাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিযোগাযোগ, সংবাদপত্র পরিবহন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে লম্বা ছুটি পেলেও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম সীমিত করেছে।
সার্বিকভাবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নেওয়া এই কঠোর ব্যবস্থাগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts