
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)কে পুনরুজ্জীবিত করতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রথমে ঢাকায় অবস্থানরত সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক, পরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘সার্কের পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অবিশ্বাস, ভারত-পাকিস্তান বিরোধ, আন্তঃসীমান্ত উত্তেজনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সার্ক কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তবে এসব সংকট কাটিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।
তার ভাষায়, সার্ককে দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বাইরে রেখে অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির মতো জনগণকেন্দ্রিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সার্ক সনদেও দ্বিপক্ষীয় বিরোধকে আলোচনার বাইরে রাখার নীতি রয়েছে, সেটিই কার্যকরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ককে আরও কার্যকর করতে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং উন্নয়নমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সব সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংস্থাটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সার্ক ও বিমসটেককে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সংযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই প্ল্যাটফর্মই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে আস্থা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ বাড়ানোর মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে সার্ক সচিবালয় ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা চালিয়ে পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের সাবেক বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা তারিক এ করিম। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব শামসুল হক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্কের সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে। এরপর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে সংস্থাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।