
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে ‘নিশ্চিত’ ও ‘সন্দেহজনক’ হামে মৃত্যুর আলাদা হিসাবকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুকেই হামের মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫১৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মোট ৬০৫ শিশুর মৃত্যু হলেও সরকারি হিসাবে নিশ্চিত হামের মৃত্যু দেখানো হয়েছে মাত্র ৯১ জনের।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, মহামারী পরিস্থিতিতে ‘সন্দেহজনক’ ও ‘নিশ্চিত’ মৃত্যুর মধ্যে এমন বিভাজন প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করছে। তারা মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে দ্রুত ‘ডেথ রিভিউ’ বা মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম হাম শনাক্ত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে সম্প্রতি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, শিশু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়-দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও বিস্তারিত পর্যালোচনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণই ভবিষ্যতে এমন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।