নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতিম ফুলের মিষ্টি সুবাস। শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে গ্রামের নিরিবিলি পথ—বাতাসে ভেসে আসা এই ঘ্রাণ পথচারীদের আকৃষ্ট করছে। প্রথম দেখায় খুব বেশি নজর না কাড়লেও সুগন্ধের কারণে ছাতিম ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পেয়েছে আলাদা পরিচিতি।

বাংলার প্রকৃতিতে ছাতিম একটি পরিচিত চিরসবুজ বৃক্ষ। শরৎ ও হেমন্তের সন্ধিক্ষণে গাছের ডালে ডালে ছোট ছোট সাদাটে ফুল গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের রং ও আকার খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও এর তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণ সহজেই আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেক সময় এই সুবাস আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। সাধারণত রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা, পার্ক ও বাড়ির আশপাশে এ গাছ দেখা যায়। গাছটি বেশ উঁচু হয়। এর পাতাগুলো ডালের গিঁটে চক্রাকারে সাজানো থাকে। ছোট আকারের ফুলগুলো একসঙ্গে অনেকগুলো ফোটায় ডালে তৈরি হয় আকর্ষণীয় গুচ্ছ।

ছাতিম ফুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর মিষ্টি সুবাস। বাহারি রং কিংবা আকর্ষণীয় পাপড়ি দিয়ে নয়, বরং বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ঘ্রাণের মাধ্যমেই ফুলটি মানুষের মনোযোগ কাড়ে। অনেক পথচারী ফুলের উৎস খুঁজতে গাছের দিকে তাকান, কেউ কেউ আবার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ অনুভূতি।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ছাতিম ফুলের ঘ্রাণের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। শরতের শেষভাগ থেকে হেমন্তের শুরুতে এর সুবাস অনেকের মনে তৈরি করে বিশেষ আবহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুরোনো বাড়ির আঙিনা কিংবা গ্রামের পথের ধারের ছাতিমগাছ তাই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, অনেকের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।

প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কেবল চোখে দেখার বিষয় নয়, ছাতিম ফুল তারই এক অনন্য উদাহরণ। বাহ্যিক চাকচিক্য না থাকলেও মিষ্টি সুবাসে মানুষের মন ভালো করে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে ফুলটির। আর এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যই ছাতিমকে বাংলার প্রকৃতিতে বিশেষ স্থান দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts