নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মা ও শিশুর মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অনিয়ম ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন না করার কারণে সেবাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন ছয়টি ইউনিয়নে ১৪৪টি টিকাদান কেন্দ্র ও ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এক বছরের কম বয়সী শিশু এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত টিকাদানের দিন ছাড়া অন্যান্য সময়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকেন না।
মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। কিন্তু ছয় ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের সেবার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে অসন্তোষও রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দুটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করলেও দায়িত্ব বণ্টনে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব না দিয়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি বারাসাতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব নিয়েও অস্পষ্টতার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের একটি কার্যালয় থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্তভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করানো নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ কাজে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি ব্যয়ের অর্থ দেওয়া হয় না।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব সজিব জানান, তেরখাদার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি দ্রুত খুলনার সিভিল সার্জনকে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।
তবে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, সেবার মান এবং তদারকির ঘাটতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি