★ নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমের চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক প্রচলিত বন্যার পাশাপাশি এখন স্বল্প সময়ে অতিভারি বৃষ্টির কারণে নগর বন্যা ও জলাবদ্ধতা বড় ধরনের দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাভূমি ভরাট এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের বন্যার ভূগোলও পরিবর্তিত হচ্ছে।
এবারের বর্ষায় চট্টগ্রামে একদিনে চার দশকের সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যেখানে বন্যার মূল ঝুঁকি ছিল নদী অববাহিকা ও উপকূলীয় এলাকায়, এখন বড় শহরগুলোও অতিভারি বৃষ্টিতে নগর বন্যার শিকার হচ্ছে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, খাল দখল, জলাভূমি ভরাট এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হলেও জুলাইয়ের শুরুতেই স্বল্প সময়ে অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এমন চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় সাত জেলার ৫৯টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর বন্যার পৃথক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ অবকাঠামো, খাল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। শুধু পূর্বাভাস নয়, সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল উপায়।