নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউল সাধক লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে উদ্ধার করা সন্দেহজনক ডিভাইসটিতে টাইমার ও ব্যাটারি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক পরীক্ষায় এটিকে সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিভাইসটির সঙ্গে পেট্রোলভর্তি দুটি বোতলও পাওয়া যায়।

রোববার রাত ১টার দিকে মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশে একটি নারকেলগাছের কাছ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয়। সন্দেহজনক ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মাজারে আসা সাধুদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় পেট্রোলভর্তি দুটি ছোট বোতল, দুটি ধাতব ক্যানিস্টার এবং বৈদ্যুতিক তার সংযুক্ত একটি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, ডিভাইসটিতে টাইমার ও ব্যাটারি ছিল। পার্টিতে ব্যবহৃত স্মোক বোমার অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানিস্টারের ভেতরে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রোলের বোতল রাখা হয়েছিল, যাতে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ঢাকার মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে উদ্ধার করা বোমাটির সঙ্গে এ ডিভাইসের প্রযুক্তিগত মিল রয়েছে। তবে দুই ঘটনার বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বাইরের খোলের উপাদানে পার্থক্য ছিল। কুষ্টিয়ার ডিভাইসটি তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হাতে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ ঘটনায় কারা জড়িত বা কী উদ্দেশ্যে ডিভাইসটি সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো তথ্য জানায়নি।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ঢাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর পাইপ বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সেটি ঘিরে রেখে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

ওই ঘটনার পর পুলিশ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ এবং তাঁর অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছিল। এ ঘটনায় মামুনের এক সহযোগীকে সাভার থেকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত মামুনকে তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

লালন শাহের মাজারের পাশে ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts