নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তাদের পরিবার।
রোববার রুনির ভাই নওশের আলম রোমান পরিবারের পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ জমা দেন। এতে দীর্ঘদিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তের পর হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে। এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে টাস্কফোর্স গঠনের পরও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের কমপ্লেইন্ট রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৮ ধারার আওতায় বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য কোনো তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হবে।
এর আগে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলাটি নিয়ে কিছু নতুন তথ্যের কথা জানানো হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর জোহা দাবি করেন, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে তিন থেকে চারজন সন্দেহভাজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং কোনো সামরিক বা র‌্যাব কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত বা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘও সঠিক তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার অভিযোগ দেওয়ার পর নওশের আলম রোমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের হাতে থাকা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে যদি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে পরিবার সেটির সঠিক তদন্ত ও প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া মামলাটিতে পরিবারের এই নতুন আবেদন বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন কোনো অগ্রগতি আনে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও উচ্চ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts