নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :
ওয়ানডে ক্রিকেটে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলেন দর্শকরা। ইংল্যান্ডের করা ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা ১ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে রান তাড়া করে জয়ের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাফল্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দল মিলে সংগ্রহ করে ৮৫৯ রান। শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইয়ে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন পবন রত্নায়েকে। ১০৬ বলে ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৩০ রান করে তিনি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।
এ ছাড়া সাবেক অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দো দুজনই ৯৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। শানাকা মাত্র ৫০ বলে ছয়টি চার ও আটটি ছক্কায় ঝোড়ো ইনিংসটি খেলেন। অন্যদিকে ফার্নান্দো ৮৩ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও দুটি ছক্কা মারেন। দুজনই সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে আউট হন।
এর আগে টসের পর ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে রেকর্ড গড়েন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ১১৬ বলে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় ২০২ রান করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক হাঁকানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন ব্রুক। এর আগে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বেন স্টোকসের ১৮২ রান।
ব্রুকের ব্যাটিংয়ে আরও একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড তৈরি হয়। বাউন্ডারি থেকে তাঁর সংগ্রহ ১৪৪ রান, যা ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। এর আগে এ রেকর্ড ছিল জস বাটলারের, যিনি বাউন্ডারি থেকে ১২৪ রান করেছিলেন।
ইংল্যান্ডের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উইল জ্যাকস, জো রুট ও টম ব্যান্টন। জ্যাকস মাত্র ৩০ বলে আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬৬ রান করেন। রুট ৬৬ বলে আটটি বাউন্ডারিতে ৬৯ রান করেন। ওপেনার ব্যান্টনের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৫০ রান। বেন ডাকেট করেন ৩৯ বলে ২৯ রান।
ওয়ানডে ক্রিকেটে রান তাড়া করে জয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় পেয়েছিল দলটি। দুই দশক পরও সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার এই জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে আবারও প্রমাণ করল, বিশাল সংগ্রহ গড়েও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা সব সময় সম্ভব নয়।