নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :
দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাঙামাটির সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্থানীয় দুটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির নেতাদের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সাজেক এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জানমালের সুরক্ষা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলংবাজারের পূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছিল।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কর্মসূচি শুরুর পর স্থানীয় প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় অবস্থানরত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল। ওই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি। এ কারণে ১৫ অক্টোবর আবারও সড়ক অবরোধ করা হয়।
নেতারা জানিয়েছেন, এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে অবরোধের আওতার বাইরে থাকবে জরুরি সেবার যানবাহন। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যান এবং সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহনও এ কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখার কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সাজেক এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছেন সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন।
অবরোধের নতুন ঘোষণায় সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম ও স্থানীয় যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।