আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য সংগঠনের বিক্ষোভ ও সমাবেশের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। আগামী শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক শেষে মাখোঁ জানান, যেসব সংগঠনের বিক্ষোভ আয়োজনের আইনগত অনুমোদন নেই, তাদের সমাবেশের আবেদন স্থানীয় প্রশাসন বাতিল করতে পারবে। তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলো নিয়ম মেনে বিক্ষোভের অনুমতি চাইতে পারবে। আবেদন পর্যালোচনার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প স্থানে বা পথে কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও কারফিউ জারি করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসব কর্মসূচি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন মাখোঁ। তাঁর মতে, পরিস্থিতির কিছু দিক আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনাগুলোর পর প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাখোঁর অভিযোগ, উগ্র বামপন্থি কয়েকটি সংগঠন সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার প্রতিরক্ষাবিষয়ক আরেকটি বৈঠক আহ্বান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।