আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অন্তত ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সপ্তাহজুড়ে এ তেলের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এ তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দাম যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।

সৌদি আরবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে দাম আরও কিছু সময় উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইউরোপের শেয়ারবাজারেও। আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে প্যান-ইউরোপীয় সূচক এসটিওএক্সএক্স ৬০০-এর দর ০ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে যায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সূচকটির তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছিল। সাপ্তাহিক হিসাবেও সূচকটি নিম্নমুখী ছিল।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির সরকারের বরাতে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাশিয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির মজুতও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বিওকে ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটিজের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার বলেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইরানের ওপর আরও তীব্র হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম বাড়িয়ে রাখতে পারে। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানও মনে করছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts