নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারী অধিকার এবং মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাদের। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় এনসিপি সাংগঠনিকভাবে নীরব থেকেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দলটির অবস্থান তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে কাদের বলেন, মরদেহ দাফনে বাধা এবং কবর ভরাট করে দেওয়ার পরও এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, দলটির কোনো নেতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি।
কাদেরের ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে এমন ঘটনার পরও নীরব থাকায় এনসিপির মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, এ ক্ষেত্রে দলটি তাদের রাজনৈতিক শরিকদের পক্ষ নিয়েছে এবং নীরবতার মাধ্যমে ঘটনাটিকে সমর্থন জানিয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণে অবশিষ্ট ইট ব্যবহার করে মাংস রান্নার ঘটনা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গরু ভোজের আয়োজন নিয়েও সমালোচনা করেন কাদের। তাঁর অভিযোগ, পাল্টা আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কতটা সহায়ক, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নারী নির্যাতন ও অধিকার প্রসঙ্গেও এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাদের। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াতে দলটির নেতাদের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি নেতাদের নীরবতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
পোস্টে কাদের এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানকে জামায়াতের প্রভাবাধীন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়ে দলটির বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের অসংগতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে নতুন একটি ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তিরও সাবেক নেতা।