নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য পদার্থের বড় অংশ অতিকায় ব্ল্যাক হোল দিয়ে গঠিত নয় বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমির আলো বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ ধরনের ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব নেই।
বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট স্পেস ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছায়াপথগুলো বিপুল গতিতে ঘুরলেও মহাকর্ষীয় বন্ধন কীভাবে বজায় রাখে, তা ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ডার্ক ম্যাটারের ধারণা ব্যবহার করে আসছেন। ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশই এই অদৃশ্য পদার্থ দিয়ে গঠিত।
ডার্ক ম্যাটার সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায় না। তবে এর মহাকর্ষীয় প্রভাবের মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিভিন্ন কাঠামোর ওপর এর ভূমিকা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে, ব্ল্যাক হোলের বিপুল ভর ও আলো আটকে রাখার বৈশিষ্ট্যের কারণে এগুলো ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে কি না, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেছেন, সূর্যের ভরের তুলনায় হাজার কোটি গুণ বা তারও বেশি ভারী ব্ল্যাক হোল ডার্ক ম্যাটারের বড় অংশ গঠন করতে পারে কি না। গবেষকদের মতে, এ ধরনের অতিকায় ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকলে মহাবিশ্বের পদার্থের বণ্টনে তার প্রভাব শনাক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু পর্যবেক্ষণে তেমন প্রমাণ মেলেনি।
গবেষণায় মহাবিশ্বের প্রাচীন আলো, অর্থাৎ ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার বছর পর পদার্থ ঠান্ডা হয়ে পরমাণু গঠন করতে শুরু করলে আলো স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ পায়।