আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে ডিজেল উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সাল থেকে ডিজেল রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন, বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত এবং জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানির বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে।
দেশটির তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, ভারত কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে চায়। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০ কোটি টন জ্বালানি পরিশোধনের লক্ষ্য রয়েছে দেশটির। পরবর্তী সময়ে এই সক্ষমতা ৪০ কোটি টনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সমুদ্রপথে ডিজেল রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। এ তালিকায় দেশটির ওপরে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র।
বাড়ছে উৎপাদন সক্ষমতা
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ২০২৭ সালে সম্মিলিতভাবে বছরে আরও ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিদ্যমান শোধনাগার সম্প্রসারণ এবং নতুন স্থাপনার মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসি) বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ এস সাহনির ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন সম্ভব হবে।
হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (এইচপিসিএল) রাজস্থানের নতুন শোধনাগারটির বার্ষিক সক্ষমতা ৯০ লাখ টন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকাশ কৌশল জানিয়েছেন, শোধনাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় স্থিতিশীলভাবে চালু হলে আগামী বছর সেখানে প্রায় ৩০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদিত হতে পারে।
এদিকে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আগামী বছর থেকে বছরে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। পূর্ব ভারতের নুমালিগড় শোধনাগারের সক্ষমতাও আগামী বছরের মার্চে বছরে ৯০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ডিজেল উৎপাদন বছরে আরও ৩০ লাখ টন বাড়তে পারে।
রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের চাহিদা মেটাতে বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি কিনে থাকে। নিজস্ব উৎপাদন বাড়লে এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরের উৎস থেকে জ্বালানি কেনার প্রয়োজন কমতে পারে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত ডিজেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া ভারতের শোধনাগারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যালের কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে বেশি মূল্য পাওয়া যায়—এমন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে।
বর্তমানে ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও নায়ারা এনার্জি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় সরবরাহকারী হয়ে ওঠাই এখন ভারতের লক্ষ্য।