নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে জোট করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৫০০ মানুষ। দেশটির তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইহুদি-আরব ঐক্য ও রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষে স্লোগান দেন।
স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন পাওয়ার পর এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্যে ছিল—‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে চায় না’ এবং ‘বর্ণবাদ নয়, অংশীদারত্ব চাই’।
বামপন্থী দ্বিজাতিক সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ সমাবেশটির নেতৃত্ব দেয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে একই স্থানে পাল্টা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে তারা সমাবেশ করতে পারে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, বৈরী বিদেশি সরকারের সমর্থনে আরব দলগুলো ‘নির্বাচন চুরি’ করেছে। ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর কয়েকজন সমর্থক হাবিমা স্কয়ারের আশপাশে জড়ো হয়েছেন।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মোট ৬৭টি আসন পেলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে নির্বাচনে আরব দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।
আরব দলগুলোর সমর্থন বাদ দিলে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮। যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যার চেয়ে পাঁচটি কম।
এ অবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন অথবা ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর কোনো সদস্যের পক্ষ পরিবর্তন ছাড়া নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর ইহুদি জাতীয়তাবাদী বিরোধীদের কারও পক্ষেই নতুন নেসেটে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেট সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে।