নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাজীপুরে মামলা করেছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ। সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং টোল প্লাজায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে বাসন থানায় মামলার এজাহার জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় কালিয়াকৈরের মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ মোড়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে দেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কের পাশে রাখা বর্জ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর সকাল ১০টার দিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে টোল প্লাজায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আলোচনার একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার অবরোধ সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওইসব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভোগড়া বাইপাসের টোল প্লাজায় নাশকতার চেষ্টা এবং সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে বাসন থানায় মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।