নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)। ‘দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, উন্নত দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবারের আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। জাতীয় উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা তুলে ধরা, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় আইডিইবি ভবনে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।
৯ নভেম্বর বিকেল ৩টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিকস বিভাগের চেয়ারম্যান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। ওই দিন বিকেল ৫টায় পারিবারিক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া ৮ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জেলা শাখা কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে প্রযুক্তি পরামর্শ দেওয়া হবে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইডিইবি কারিগরি শিক্ষার প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তাঁদের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তির যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষাকে আরও আধুনিক, ব্যবহারিক ও কর্মবাজারের চাহিদাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন নেতারা। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাগত সততা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আইডিইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সদস্যসচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আইডিইবি নেতারা বলেন, দক্ষতা, সততা, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবসের কর্মসূচি সফল করতে তাঁরা গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।