নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার ও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাঁওতাল নেতারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। আহত ব্যক্তিদের অনেকে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। কারও শরীরে এখনো গুলির স্প্লিন্টার রয়েছে। ফলে তাঁরা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।
বক্তারা সাঁওতাল হত্যার বিচার, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমি উদ্ধারের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকায় এখনো ভূমি দখলের অপতৎপরতা চলছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলার জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে কালো পতাকা, তীর-ধনুক, ব্যানার ও দাবিসংবলিত ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ফিলিমন বাসকে। বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা খোকন সুইটেন মুরমু, আরতি ফালকো, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইটসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চিনিকল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম মারা যান।