
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এবার সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, সামরিক স্থাপনা দখলের দাবি এবং হতাহতের পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিস্তৃত ও তীব্র। ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা International Crisis Group–এর উপদেষ্টা সামিনা আহমেদ মনে করেন, টিটিপিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগই নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। তার ভাষায়, কাবুল যদি পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।
নতুন করে সংঘাতের সূচনা
আফগান তালেবান দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজব লিল-হক’ নামে অভিযানের কথা জানিয়ে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।
উভয় পক্ষই বড় ধরনের হতাহতের দাবি করেছে। যদিও স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন, তবু পরিস্থিতি যে দ্রুত অবনতি হয়েছে, তা স্পষ্ট।
বিরোধের শিকড় কোথায়?
দুই দেশের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডুরান্ড লাইন’ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধের উৎস। আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। অপরদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সীমান্তে অন্তত ৭৫ বার সংঘর্ষের তথ্য দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
কার সামরিক শক্তি কতটা?
লন্ডনভিত্তিক International Institute for Strategic Studies–এর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতায় পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। তাদের সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি; রয়েছে আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র।
অন্যদিকে আফগান তালেবানের বাহিনী জনবল ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও গেরিলা কৌশল, ড্রোন ব্যবহার ও আদর্শিক সংহতিকে শক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।