নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির অনুপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে রহস্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে না আসায় তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা ও কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ), ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা মুজতাবার অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র এখন ঠিক কার হাতে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সম্প্রতি পারস্য নববর্ষ নওরুজ উপলক্ষে মুজতাবা খামেনির প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ছিল। তবে তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে কেবল একটি লিখিত বার্তা দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, মুজতাবা খামেনি বেঁচে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ মেলেনি। বরং ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক হামলায় মুজতাবা আহত হয়ে থাকতে পারেন। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর গত মার্চ মাসে মুজতাবাকে নতুন নেতা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে তার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং সীমিত যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের স্পষ্টতা না থাকলেও শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে তারা মনে করছে, দেশটি বর্তমানে একটি ‘কমান্ড সংকট’-এর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুজতাবা খামেনির এই নীরবতা ও আড়ালে থাকা ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts