
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জাতীয় সংসদে দেশের অর্থনীতির গত দুই দশকের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতির নানা দুর্বলতা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনীতির আকার বড় হলেও এর ভেতরে কাঠামোগত সংকট ধীরে ধীরে গভীর হয়েছে।
শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের শেষ সময়ের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ের অর্থনীতির তুলনা তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৪.২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত চাকরি সৃষ্টি না হওয়ায় অনেক তরুণ কৃষিখাতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে উৎপাদনশীলতা কমার পাশাপাশি ছদ্ম-বেকারত্ব বেড়েছে।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, সঞ্চয় কমে যাওয়ায় বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা বহিঃখাতে চাপ সৃষ্টি করছে।
এছাড়া টাকার মান অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের হার বেড়ে গেছে এবং সুশাসনের অভাবে আর্থিক খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় বাজেট ঘাটতি বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বহিঃখাতের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি ও রেমিটেন্স বাড়লেও আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক চাপও বেড়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আয় বৈষম্য বাড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, মাথাপিছু আয় বাড়লেও এর সুফল সবার মধ্যে সমানভাবে পৌঁছায়নি।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।