নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি, সার ও শ্রমিক সংকটে কৃষি খাত পড়েছে চাপে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় মাঠে কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকরা জানান, সেচ থেকে শুরু করে জমি চাষ, ফসল কাটা—সব ক্ষেত্রেই এখন যন্ত্রনির্ভরতা বেড়েছে। আর এসব যন্ত্র চালাতে প্রয়োজন ডিজেল। কিন্তু তেলের সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি মিলছে না। এর সঙ্গে আবার ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে গেছে।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের ভাষ্য, সার সংগ্রহ করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে বেশি দামে বাজার থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে একদিকে খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের বাজারদর তুলনামূলক কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। এই সময়ে সেচের কোনো ঘাটতি হলে উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষিতে বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। ফলে এর প্রভাব সরাসরি মাঠ পর্যায়ে পড়ছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, জ্বালানি সংগ্রহ সহজ করতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও বাস্তবে অনেক কৃষক এখনও ভোগান্তির কথাই জানাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে তেল, সার ও শ্রমিক—এই তিন সংকট একসঙ্গে কৃষিকে চাপে ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts