নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ছয় দশকের আলোচনা শেষে অবশেষে পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পকে নতুন সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজবাড়ীর পাংশা ও পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়া এলাকায় নির্মিতব্য ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, লবণাক্ততা কমানো, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৮ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাছ উৎপাদন বাড়ানো এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, গঙ্গার পানির ওপর নির্ভরশীল এ প্রকল্প ভারতের সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর হবে না। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার আগে নতুন সমঝোতা নিশ্চিত না হলে ব্যারেজ কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও দিতে পারে।
বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক ড. খালেকুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, “উজানের পানি ছাড়া পদ্মা ব্যারেজ ধুধু বালুচরে পরিণত হতে পারে।” একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলামও। তার মতে, পানির প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পলি জমে নদীর নাব্যতা নষ্ট হওয়া এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্যারেজ নির্মাণ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট সমাধানের বিকল্প নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পানি ধরে রাখা গেলে কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের উন্নতি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি, আধুনিক কারিগরি পরিকল্পনা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts