নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া প্রকৃত আয় এবং বিকল্প বিনিয়োগে বেশি লাভের কারণে সঞ্চয়পত্রে আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে টানা চার অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশিত অর্থ পাচ্ছে না সরকার; বরং বিক্রির চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধেই বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির তুলনায় ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে। এতে এ খাতে নিট বিক্রি আবারও ঋণাত্মক অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের সঞ্চয়ক্ষমতা কমে গেছে। একই সঙ্গে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি সুবিধা ও তুলনামূলক উচ্চ মুনাফা পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্র থেকে সরে যাচ্ছেন।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের আয় এখন মূলত দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে সঞ্চয় করার সুযোগ কমে গেছে। এছাড়া বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা না থাকায় বড় বিনিয়োগকারীরাও সেদিকে ঝুঁকছেন।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts