
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও সাম্যের বার্তা নিয়ে দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে এবারের ঈদ এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়—টানা বৃষ্টি, যানজট, দ্রব্যমূল্যের চাপ, শিশু মৃত্যুর শোক এবং রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়েছেন মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে নামাজ আদায় করবেন।
এদিকে ঈদযাত্রায় রাজধানী ছাড়তে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা গেছে। ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপে যাত্রার ঘটনাও ঘটেছে।
কোরবানির পশুর হাটেও ছিল বৃষ্টির প্রভাব। কাদামাখা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবুও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কেনাবেচা। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
ঈদের আনন্দের মাঝেও শোকের ছায়া ফেলেছে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু এবং পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে হাজার হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও শত শত যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে কোরবানির আনন্দ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।