
নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলে কাজ স্থগিত মন্দির কর্তৃপক্ষের; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ চায় ইমাম-ওলামা পরিষদ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রাম বিগ্রহকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও উত্তেজনার মধ্যে এর নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে কাজ বন্ধের ঘোষণার পরও বিগ্রহটি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইমাম-ওলামা পরিষদ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার চারমাথা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। কর্মসূচি থেকে বক্তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণাধীন বিগ্রহ অপসারণ এবং প্রকল্পের পেছনের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে মন্দির কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানান, কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে বিগ্রহ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, পলাশবাড়ীর শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন এই রাম বিগ্রহটি ‘এশিয়ার বৃহত্তম’ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার সকাল থেকেই পলাশবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে ইমাম-ওলামা পরিষদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আট দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত।
সংগঠনটির নেতাদের দাবি, প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। অন্যদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাম বিগ্রহ নির্মাণকে ঘিরে পলাশবাড়ীর পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।