নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত বলেছেন, তিনি কখনো নিজেকে শুধু বাবা বা পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হিসেবে দেখেননি। তার ভাষায়, “আমি তো সব সময়ই নায়ক।”
একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে তিনি অভিনয় জীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা অজানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আবুল হায়াত জানান, ছোটবেলা থেকেই নাটকের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে মায়ের শাড়ি দিয়ে পর্দা বানিয়ে বাড়িতেই মঞ্চ তৈরি করে নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। পরে চট্টগ্রাম বেতার, মঞ্চনাটক, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি বলেন, বুয়েটে পড়াশোনার সময় নাট্যচর্চা আরও সমৃদ্ধ হয়। পরবর্তীতে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করেন। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেন।
চলচ্চিত্রে অভিষেকের স্মৃতিচারণ করে আবুল হায়াত বলেন, কিংবদন্তি নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ের নানা স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিকেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তার প্রায় ৪০টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও এতে কোনো আক্ষেপ নেই জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, একজন শিল্পীর মূল পরিচয় তার অভিনয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা। চরিত্র ছোট বা বড় নয়, অভিনয়ই একজন শিল্পীকে দর্শকের কাছে স্মরণীয় করে রাখে।
কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই বরেণ্য অভিনেতা বলেন, “কাজেই আনন্দ, আর সেই আনন্দই মানুষকে দীর্ঘদিন ভালো রাখে।”