নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশও সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
বর্তমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। তবে এবার স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনী আইনে সংশোধন এনে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণকালীন চাকরিতে থাকায় তাদের চেয়ারম্যান, মেয়রসহ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হওয়া উচিত নয়। তাই পদত্যাগ না করে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসির এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
গত ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তা বৈষম্যমূলক হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটও শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, সরকার যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তাদের চাকরি পুরোপুরি সরকারি করে, সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ থাকলে তাদের আপত্তি থাকবে না।
ইসি সচিবালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদের ভাষ্য, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে আদালতের আদেশের পর তারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
এদিকে ইসি জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হবে। প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানোর পর সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে তা কার্যকর করার কথা রয়েছে।
ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।