নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
নতুন আচরণবিধিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন এবং সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও অপব্যবহারমূলক প্রচারণা ঠেকাতেও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের আচরণবিধি কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। এখন তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।
এ ছাড়া ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চির মধ্যে রাখার বিধান রয়েছে।
প্রচারসামগ্রী সাদাকালো রাখার পাশাপাশি এতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। প্রতীকের আকারও সর্বোচ্চ ছয় ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধিতে মাইক ব্যবহারের সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। একসঙ্গে একটির বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। একই সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহার করেও প্রচার চালানো যাবে।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক কিংবা সংশ্লিষ্ট পরিষদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও থাকছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয়ও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সীমার মধ্যে গণনা করা হবে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও মাইক ব্যবহারের অনুমতি রাখা হয়নি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোটের ব্যবস্থা চালু হলেও ২০২৫ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান বাতিল করা হয়। ফলে নতুন ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নতুন আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।