নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসেন রোগীরা। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে তাদের অনেককেই পড়তে হচ্ছে নতুন ভোগান্তিতে। হাসপাতালের ভেতরে থাকার জায়গা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের রাত কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, মাঠে কিংবা সিঁড়ির নিচে।
শনিবার রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ‘বি’ ও ‘সি’ ব্লকের মাঝের ফাঁকা জায়গা এবং পাশের বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মাঠে শতাধিক রোগী ও স্বজন শুয়ে-বসে রাত পার করছেন।
ফরিদপুরের জিন্না তালুকদার ছয় মাস ধরে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগছেন। তৃতীয় দফা কেমোথেরাপি নিতে হাসপাতালে এলেও রাতে থাকার জায়গা না পেয়ে তাঁকে মাঠেই থাকতে হয়েছে।
জিন্না বলেন, কেমোথেরাপি নিতে নিতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। সকালে টিকিট কেটে আবার চিকিৎসা নিতে হবে। তাই হাসপাতালের পাশের মাঠেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসতে হয়। কিন্তু থাকার জায়গা না থাকায় দিন-রাত বসে থাকতে হয়। কখন বৃষ্টি নামে, সেই ভয়ও থাকে।
খুলনার কয়রা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসা মাইন উদ্দিনেরও একই অভিজ্ঞতা। তাঁর স্ত্রী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য কমে গেছে। ফলে বাইরে হোটেল বা বাসা ভাড়া করে থাকার সুযোগ নেই।
নড়াইল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ক্যান্সার রোগী লিটনের কষ্ট আরও বেশি। আগে চার্জার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও ক্যান্সার ধরা পড়ার পর সেটি বিক্রি করে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি।
লিটন বলেন, সঙ্গে থাকা অল্প টাকা হারিয়ে গেলে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই স্ত্রী ঘুমালে তিনি জেগে থাকেন, আবার তিনি ঘুমালে স্ত্রী পাহারা দেন। এভাবেই তাঁদের রাত কাটে।
শুধু থাকার সমস্যাই নয়, রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রেও দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে বর্তমানে দুটি সচল রয়েছে। ফলে সিরিয়াল পেতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ, কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালটির পরিচালক মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, বর্তমানে দুটি মেশিন দিয়ে জরুরি রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। মেশিন সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রোগী ও স্বজনদের খোলা জায়গায় রাত কাটানোর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে সকালের টিকিট কাউন্টার মূল সড়কের পাশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন শেড করা হলে কিছু রোগী ও স্বজন রাতে অবস্থান করতে পারবেন।
ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীদের অনেকেই বলছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি স্বল্প খরচে থাকার ব্যবস্থা করা গেলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।