যশোর প্রতিনিধি :
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পর্তুগালে মারা যাওয়া যশোরের ইছালীর প্রবাসী তরুণ আব্দুল্লাহ আল জিহাদের (২৫) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকালেই তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ইছালীর উদ্দেশে রওনা হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে জিহাদের মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর যোহরের নামাজের পর ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
এর আগে জিহাদের মরদেহ ২৪ আগস্ট দেশে ফেরার কথা থাকলেও বিমান বুকিং নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ২৬ আগস্ট মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য নতুন করে বুকিং করা হয়। সে অনুযায়ী ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মঙ্গলবার সকালে তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁর মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পর্তুগালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জিহাদ যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইছালী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা রেজাউল হকের একমাত্র ছেলে। তাঁর দাদা ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী।
জিহাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইছালী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাঁর বাবা-মা ও দুই বোন শোকে মুহ্যমান। তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
জিহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।