নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদনের কথা ভাবছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি।
তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয়। গ্যাসের তুলনায় ফার্নেস অয়েল দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ছয় গুণ বেশি জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি ৩৯টি এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইউনিটের মোট সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের অভাবে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগলেও সংকট মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং জ্বালানি তেল আমদানির জন্য অর্থের ব্যবস্থা জরুরি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি প্রায় ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। অন্যদিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে একই ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ টাকা ৬৯ পয়সা।
অর্থাৎ গ্যাসের পরিবর্তে তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। তবে এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের একটি অংশ শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং বেড়ে কয়েক হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন এলএনজি অবকাঠামো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত শিল্পে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে সরকারের অন্তর্বর্তী কৌশল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts