নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বিজ্ঞানীদের এআই ব্যবহারে নজরদারি, কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র গবেষণার চেষ্টা শনাক্ত করে তা ঠেকানোর দাবি করেছে মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। এ ধরনের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত একাধিক গবেষকের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহারের মধ্যে জৈবিক গবেষণার বিষয়টি তাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। নতুন প্রজন্মের উন্নত এআই মডেল বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দক্ষ হয়ে ওঠায় এ ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন এআই মডেলকে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের পাঁচটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করেছে এবং পরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক বলছে, জৈবিক গবেষণার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর উদ্দেশ্য শনাক্ত করা সহজ নয়। কারণ নতুন টিকা বা চিকিৎসা উদ্ভাবনের গবেষণা এবং জৈবিক অস্ত্র তৈরির গবেষণায় ব্যবহৃত কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্যে মিল থাকতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রধান জ্যাকব ক্লেইন বলেন, ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে কাজ করা কেউ সাধারণত সরাসরি নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিলভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।
একটি ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের ‘বায়োলজিক্যাল সেইফটি ক্লাসিফায়ার’ চিকুনগুনিয়া ভাইরাস নিয়ে ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার জন্য অনুদানের আবেদন তৈরির অনুরোধ শনাক্ত করে। প্রস্তাবিত গবেষণায় ভাইরাসটির সংক্রমণক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় ছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া বার্ড ফ্লু নিয়ে গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণা এবং বিষাক্ত পেপটাইডের তথ্যভান্ডার ও বিষের বৈশিষ্ট্য উন্নয়নে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ঘটনাও অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে এআই মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তবে জৈবিক গবেষণার বিষয়টি জটিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেনি অ্যানথ্রপিক। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্টরা পেশাদার বিজ্ঞানী এবং তাদের ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল—এমন দাবি তারা করছে না। পরিচয় প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা গবেষণাগার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts