নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শারমিনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দুলাল হোসেন ওরফে দুলুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, দণ্ডের অর্থ আদায়ে দুলালের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদায়কৃত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামি—দুলালের ভাই হারুন, ভাবী মোরশেনা, বোন সুমাইয়া ও বোন জামাই রাজুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালে দুলাল হোসেনের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দুলাল দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য শারমিনকে নির্যাতন করতেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের বিষয় নিয়ে শারমিনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শারমিনের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শারমিনের মা মোসা. মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় দুলালের মা জরিনাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে দুলালের মা জরিনা বেগম মারা যান। সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রোববার দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত।