নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং শিক্ষক মূল্যায়নে পৃথক ওয়েবসাইট চালুর বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংস্কার শেষে রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধন করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবাদ দেখা দেয়। পরে এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহশালায় প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও স্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য চালু করা ওয়েবসাইট নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের দাবি, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত নীতিমালা রয়েছে। পৃথকভাবে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদের এমন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইনগতভাবেও গুরুতর বিষয়। অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে এমন উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর এসব কর্মকাণ্ডকে ‘দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার’ চেষ্টা হিসেবে দেখছে। তাদের বক্তব্য, ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।