নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কুড়িগ্রামে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কোথাও ডিলারের গুদামে হামলা ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। আবার সার বিতরণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের হামলা ও অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় অনেকে গ্রেপ্তার ও গ্রামছাড়া হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার না মিললেও খুচরা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় জেলায় অতিরিক্ত এক হাজার টন সার বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার বিতরণের সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে সার বিতরণের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুল আলমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় দুই কৃষক গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে মুক্ত হন। একজন আসামি অবশ্য দাবি করেছেন, তারা শুধু সারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন, কোনো কর্মকর্তাকে মারধর করেননি।
এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী ও উলিপুরে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। নাগেশ্বরীতে এক কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়। উলিপুরেও আরেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে একটি দোকানে আটকে রাখার পর পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
সবশেষ মঙ্গলবার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর বাজারে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকেরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার বিতরণের ব্যবস্থা করেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলাটি তদন্তাধীন। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সার বিতরণ ঘিরে চলমান বিরোধে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে নতুন করে চাপে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts