নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে এক হাজারে উন্নীত হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল। চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল ঘাটতির কারণে নতুন ভবনের সব সেবা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালটির অনুমোদিত মোট ২ হাজার ৭২৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৬১৯ জন। অর্থাৎ মোট জনবলের প্রায় ৪০ শতাংশ পদই খালি রয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট হাসপাতালের নতুন ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন করা হয়। আগে থাকা ৫০০ শয্যার সঙ্গে নতুন ভবন যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালটির সক্ষমতা এক হাজার শয্যায় দাঁড়িয়েছে। তবে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মীরা। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নতুন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে। তবে সাধারণ ওয়ার্ড ও আইসিইউ এখনো চালু হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা না পাওয়ায় অনেককে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের কেউ কেউ স্ট্রেচারেই শয্যার অপেক্ষায় থাকছেন।
কক্সবাজার থেকে আসা রশিদ হাসানের ভাই হিমেল হাসান জানান, তার ভাইয়ের মেরুদণ্ডে টিউমার হয়েছে এবং অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। হাসপাতালে ভর্তির কথা বলা হলেও শয্যা খালি না থাকায় ভর্তি করানো যাচ্ছে না।
যশোর থেকে আসা মনির হোসেনের স্বজনরাও পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন। চার মাস আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মনিরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল।
চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা পর্যায়েও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত ৬৪৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৮৬ জন। সেবা বিভাগের ৮৬৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ৬৭৭ জন। আর আউটসোর্সিংয়ের ১ হাজার ২১৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৬৫৬ জন।
এ ছাড়া দেশের অন্যতম বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল হলেও এখানে পূর্ণাঙ্গ পলিট্রমা ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমন্বিত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ দল না থাকায় রোগীদের অন্য হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া, নিউরো ট্রমা ও নিউরো ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসিফ-উর-রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক রোগীর মাথার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের রোগীর জন্য একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার মতো বিশেষজ্ঞ দল প্রয়োজন।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান খসরু বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং ল্যাব ও আইসিইউ পরিচালনার জন্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন।
তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসক আনার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে জনবল ঘাটতি পূরণ করে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করার আশা করছেন তারা।