নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কবি ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা তার মরদেহ সেখানে রাখা হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে প্রয়াত এই লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বাবার মানবিক নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, অসুস্থতার সময় সহকর্মী শিল্পীদের আর্থিক ও চিকিৎসাজনিত সংকট নিয়ে তার বাবা উদ্বিগ্ন ছিলেন। শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও তিনি রেখে গেছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হুসেনকে পুলিশ গার্ড অব অনার দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী মল্লিকা হুসেনের কবরের পাশে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আখতার হুসেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন আখতার হুসেন। ছড়া, শিশুসাহিত্য, জীবনী, অনুবাদ ও সম্পাদনাসহ শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে তার। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’ ও ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। বাংলা একাডেমির ফেলো আখতার হুসেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন এবং খেলাঘরের সংগঠক হিসেবেও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সাংগঠনিক গানও লিখেছেন আখতার হুসেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত এই লেখকের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ সৃষ্টিশীল জীবনের অবসান ঘটল